চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগের সফরকে কেন্দ্র করে সিডনিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সিডনি টাউন হলের কাছে সোমবার সন্ধ্যায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সংঘর্ষে কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানায়, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় একটি দলের এক আইনপ্রণেতাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ও আরও কয়েকজন দাবি করেছেন, পুলিশ কর্মকর্তারাই প্রথমে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাদানুবাদ। ছবি: রয়টার্স
ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সহিংসতায় ‘চরম মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবেই হওয়া উচিত। রেডিও স্টেশন ট্রিপল এমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ানরা সংঘাতকে নিজেদের দেশে টেনে আনতে চায় না। তারা চায় ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয় পক্ষেরই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক, কিন্তু সহিংসতা এখানে হোক, তা কেউ চায় না।
সোমবার হার্জগের সফরের প্রতিবাদে সিডনির কেন্দ্রস্থলে বড় আকারের এই বিক্ষোভ হয়। গত ডিসেম্বরে সিডনির একটি সমুদ্র সৈকতে ইহুদি হানুক্কা উৎসব চলাকালে বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট।
বিক্ষোভকে ঘিরে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পথে বিক্ষোভ পরিচালনার নির্দেশ, কিছু এলাকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং যানবাহন তল্লাশির অনুমতি ছিল। এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে করা একটি আইনি চ্যালেঞ্জ সোমবার সিডনির আদালত খারিজ করে দেয়। যে এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে, সেখানে হার্জগ উপস্থিত ছিলেন না।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ঠেলে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। অনেক বিক্ষোভকারী মাটিতে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান।
নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনস পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুলিশকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং তারা একটি ‘অসম্ভব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হয়েছিল।
অন্যদিকে ফিলিস্তিন অ্যাকশন গ্রুপ সিডনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে রাখায় বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থল ছাড়তে পারেননি। তাদের অভিযোগ, ঘোড়া ব্যবহার করে এবং নির্বিচারে পেপার স্প্রে ছিটিয়ে পুলিশ জনতার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।
রাজ্য পার্লামেন্টে বিরোধী দল গ্রিনসের আইনপ্রণেতা এবিগেল বয়েডও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল ছাড়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ঘুষি মারেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au