হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার পর এবার কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে ইউরোপ ও এশিয়ার দুটি দেশ-নরওয়ে ও তুরস্ক। শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশকে সামনে রেখে দুই দেশই বয়সসীমা নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে।
নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা সংসদে একটি বিল উত্থাপন করবে, যাতে ১৬ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে, তুরস্কের সংসদ ইতোমধ্যে ১৫ বছরের নিচের ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে।
নরওয়ের প্রস্তাবিত আইনে এখনো নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ্লিকেশনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপরই বর্তাবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাজধানী অসলো। একইভাবে তুরস্কও কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, তা স্পষ্ট করেনি।
তবে তুরস্কের নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি গেম সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নরওয়ের পরিকল্পনার তুলনায় আরও বিস্তৃত।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো গত বছরের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া। এর পরপরই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিতে শুরু করে। ডেনমার্ক একই ধরনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, ফ্রান্সে সংসদীয় তদন্ত কমিটি ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে এবং স্পেন সরকার এমন আইন প্রণয়নের কাজ করছে যেখানে ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে কিছু প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ছে এবং বয়স যাচাই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের শৈশবকে সুরক্ষিত রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। “আমরা চাই, খেলা, বন্ধুত্ব ও দৈনন্দিন জীবন যেন অ্যালগরিদম ও স্ক্রিনের দখলে না চলে যায়,” বলেন তিনি।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব এবং এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম।
নরওয়ের সংখ্যালঘু লেবার সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
শিশুদের অনলাইন উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক এই প্রবণতা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au