চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস–এর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিএফএটি) পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে জাতীয় উন্নয়নে নেতৃত্বদানের সক্ষমতা তৈরি করা এবং একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব জোরদার করা।
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস বৃহত্তর অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস প্রোগ্রামের অংশ। শিক্ষা, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সমন্বয়ে এই কর্মসূচি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন করে দক্ষ পেশাজীবী ও ভবিষ্যৎ নেতারা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন চাহিদাকে সামনে রেখে এই বৃত্তির আওতায় বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জননীতি ও শাসনব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল এবং নিরাপত্তা অধ্যয়ন।
আবেদনকারীদের প্রস্তাবিত অধ্যয়নক্ষেত্র কীভাবে এসব অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে অবদান রাখবে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস অনুমোদিত কোর্স সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পুরো সময়জুড়ে আর্থিক ও একাডেমিক সহায়তা প্রদান করে। বৃত্তিপ্রাপ্তরা বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে যাতায়াতের বিমান ভাড়া, সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের ভাতা, স্বাস্থ্য বীমা, প্রাথমিক স্থাপনা ভাতা, একাডেমিক সহায়তা এবং প্রয়োজনে ফিল্ডওয়ার্ক ভাতা পাবেন।
এই বৃত্তির আওতায় কোর্সওয়ার্কভিত্তিক ও গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পিএইচডি প্রোগ্রাম এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে তাদের পড়াশোনা শুরু করবেন।
আবেদনকারীদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে। কর্মসংস্থান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রস্তাবিত অধ্যয়নক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।
নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আবেদনকারীদের বিশেষভাবে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আবেদন করতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে OASIS অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। সব নথি যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে এবং পাসপোর্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করতে হবে। অসম্পূর্ণ বা দেরিতে জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
আবেদন যাচাইয়ের পর সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। একাডেমিক দক্ষতা, নেতৃত্বের সম্ভাবনা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সক্ষমতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হবে। আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের এপ্রিল এর ৩০ তারিখ আবেদন শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস শুধু একটি শিক্ষাবৃত্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে টেকসই পরিবর্তনের পথ সুগম হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au