তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২১ জুন- টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নির্বাচনী বিরোধের জেরে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জসিম উদ্দিন (৩০) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা এবং মাফিক নায়েবের ছেলে।
পরিবারের দাবি, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় জসিমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত জসিম উদ্দিন মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং জয়ী হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মহিউদ্দিনকে পরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে জসিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাসির দেওয়ান ও তাঁর ছেলে শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল সেখানে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা বাড়িতে ঢুকে জসিম উদ্দিন, তাঁর বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম ও তাঁর ভাই মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিমের মৃত্যু হয়।
জসিমের বড় ভাই মসিউর নায়েব বলেন, ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করাই তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’। তাঁর ভাষ্য, কারও সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। শুধুমাত্র নির্বাচনী অবস্থানের কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত শাকিল দেওয়ান সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, সকালে জসিমদের পক্ষ থেকে ধানের শীষের সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছিল। তিনি এ ঘটনায় অভিযোগ জানাতে থানায় যান। পরে জসিম ও তাঁর লোকজন এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধ ও নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন স্থানে বিরোধ ও সহিংসতার যে অভিযোগ উঠছে, এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au