তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২১ জুন- টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশে জেন–জি নেতৃত্বাধীন গণ–অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ৩০০ আসনের সংসদে দলটি পেয়েছে মাত্র ছয়টি আসন। রাজপথের আন্দোলনের উত্তাপকে ভোটব্যাংকে রূপ দেওয়ার কঠিন বাস্তবতাই এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভোটাররা দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকেই বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন। দলটি এর আগে তিন দফায় সরকার গঠন করেছে। সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তারা ক্ষমতায় ছিল।
অন্যদিকে ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এনসিপি একটি জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে সেই জোট কৌশল শেষ পর্যন্ত দলটির জন্য প্রত্যাশিত সাফল্য বয়ে আনেনি।
এনসিপির অনেক সমর্থক মনে করেন, গত ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তই দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের ভাষ্য, এতে করে দলটি মূল লড়াইয়ে নিজস্ব অবস্থান হারায় এবং তরুণ ভোটারদের একটি অংশ দূরে সরে যায়।
শুরুর দিকে প্রায় সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এনসিপি মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলটির নেতাদের দাবি, ঢাকায় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হত্যার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বড় একটি দলের সঙ্গে জোটে যাওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে এনসিপি ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করা তরুণদের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এনসিপির বিজয়ী ছয় প্রার্থীর একজন আবদুল্লাহ আল আমিন, পেশায় আইনজীবী ও দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি বলেন, আরও কয়েকটি আসনে জয়ের আশা ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে অল্প ব্যবধানে হেরেছেন তাঁরা। তাঁর ভাষ্য, দলটির রাজনৈতিক যাত্রা সবে শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা এগোতে চায়।
তিনি আরও বলেন, জোটের কারণে অন্তত ছয়টি আসনে জয় পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়েছে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, এই জোট তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, অনেকেই আশা করেছিলেন এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক ধারা ভেঙে নতুন পথ দেখাবে। কিন্তু জোটের সিদ্ধান্তে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এতে তরুণদের ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিজেদের সুসংগঠিত ও শাসনের জন্য প্রস্তুত দল হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, দলটি বিরোধী দলে থেকে নিজেদের পুনর্গঠনে মনোযোগ দেবে। আগামী এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম রয়টার্সকে বলেছিলেন, সংগঠন গোছাতে পর্যাপ্ত সময়ের অভাব ছিল। তহবিল স্বল্পতা এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়াও তাদের পিছিয়ে দিয়েছে।
অধ্যাপক শাকিল আহমেদের মতে, এনসিপি যদি নিজেদের স্বকীয় রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে না পারে এবং বিতর্কিত জোট থেকে দূরত্ব বজায় না রাখে, তবে জনসমর্থন আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দলটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার বদলে প্রান্তিক অবস্থানে থেকে যেতে পারে।
পরাজিত তরুণ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচিত নাম তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে ডিসেম্বরে এনসিপি ছেড়ে ঢাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

তাসনিম জারা
তাসনিম জারা বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের সমর্থন অর্জন সম্ভব। তবে ভয়ভীতি মোকাবিলায় সক্ষম শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনে পাওয়া ভোটের উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদেশে চিকিৎসা পেশায় না ফিরে দেশে থেকেই রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষায়, তাঁদের সেরা সময় এখনো সামনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au