মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ২২ ফেব্রুয়ারি- মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরও পিছু হটছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি আইনত অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করবেন।
এর একদিন আগে, শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতার দোহাই দিয়ে আরোপ করা আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত মত দেয়, প্রেসিডেন্ট যে আইনের আওতায় এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা ওই ধরনের বিস্তৃত বাণিজ্যিক পদক্ষেপের অনুমতি দেয় না।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি রায়টিকে “হাস্যকর” ও “আমেরিকা-বিরোধী” বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে এসেছে এবং তার আগের প্রশাসনগুলো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
ট্রাম্প বলেন, নতুন শুল্ক কাঠামো আইনগতভাবে পরীক্ষিত ও বৈধ হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রশাসন একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবে, যেখানে কোন কোন পণ্যের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে, তা উল্লেখ থাকবে।
তার মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সুরক্ষিত করবে এবং দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করবে। তিনি তার বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক স্লোগান “আমেরিকাকে আবার মহান করা”–এর অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন আইনি কাঠামো ব্যবহার করে শুল্ক বাড়ানো হলে বিষয়টি আবারও আদালতে গড়াতে পারে।
বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অনিশ্চয়তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ ব্যয় বেড়ে গেলে তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নতুন শুল্ক আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে আগের মতো আইনি জটিলতায় না পড়তে হয়।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও বৈশ্বিক বাণিজ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার সংকেত দিলেন ট্রাম্প। এখন দেখার বিষয়, নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক বাস্তবায়নের পথে কী ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা গভীর হয়।