স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা আরও এক হাজার ২০২টি ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, গত ১৭ বছরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আরও ১,২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার একই জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো আরেক খুদে বার্তায় জানানো হয়েছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১,০০৬টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। ফলে সাম্প্রতিক কয়েক দফায় মোট কয়েক হাজার মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়েছে।
এ বিষয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব মামলার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা।
সরকারি সূত্র বলছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হয়। আদালতে আবেদন জানিয়ে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে একটি ‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ’ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মামলাগুলো রাজনৈতিক এবং কোনগুলো নয়, তা নির্ধারণে যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের ফলে বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।