সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি: বিলিয়নিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও দাতব্য সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তাঁর সংস্থার কর্মীদের কাছে দেওয়া এক বক্তব্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে বিবাহিত থাকার সময় দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। একই সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মঙ্গলবার গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে একটি টাউন হল বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের একটি রেকর্ডিং তারা পেয়েছে। সেখানে বিল গেটস বলেন,
“আমি সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম। একবার একজন রুশ ব্রিজ খেলোয়াড়ের সঙ্গে, যাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল ব্রিজ খেলার অনুষ্ঠানে। আরেকবার একজন রুশ পারমাণবিক পদার্থবিদের সঙ্গে, যাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের সূত্রে পরিচয়।”
গেটস জানান, ব্রিজ খেলোয়াড় ওই নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা প্রথম প্রকাশ পায় ২০২৩ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের মাধ্যমে। জানা যায়, ২০১০ সালের দিকে তাঁদের পরিচয় হয়—সে সময় গেটসের বয়স ছিল পঞ্চাশের কোঠায় এবং ওই নারীর বয়স ছিল বিশের কোঠায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেফরি এপস্টিন ২০১৩ সালে ওই নারীকে চিনতেন এবং পরবর্তীতে একটি সফটওয়্যার কোডিং স্কুলে তাঁর পড়াশোনার খরচ বহন করেন। পরে তিনি গেটসকে সেই অর্থ ফেরত দিতে বলেন। এপস্টিন নথিতে থাকা ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, গেটসের সম্পর্কগুলো তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—সে বিষয়ে এপস্টিন মন্তব্য করেছিলেন।
নথিতে আরও দাবি করা হয়, এক পর্যায়ে রুশ এক নারীর কাছ থেকে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গেটস এপস্টিনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি স্ত্রী মেলিন্ডার কাছ থেকে গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। তবে গেটসের মুখপাত্র আগেই এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ হাস্যকর” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। টাউন হল বৈঠকে গেটস এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিল গেটস বলেন, ২০১৪ সালের পর তিনি এপস্টিনের সঙ্গে আর কোনো বৈঠক করেননি, যদিও পরে এপস্টিন বিভিন্ন ‘পার্শ্ববর্তী বিষয়’ নিয়ে তাঁকে ইমেইল পাঠাতেন, যেগুলোর জবাব তিনি দেননি।
“আমি কোনো বেআইনি কাজ করিনি। আমি কোনো বেআইনি কিছু দেখিওনি,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, এপস্টিনের আশপাশের কোনো ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও তাঁর সরাসরি যোগাযোগ হয়নি এবং যেসব রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল, তাঁরা এপস্টিনের ভুক্তভোগী ছিলেন না।
এপস্টিন নথিতে গেটসের সঙ্গে কয়েকজন নারীর ছবি রয়েছে, যদিও তাঁদের মুখ ঝাপসা করা। গেটস দাবি করেন, তাঁরা ছিলেন এপস্টিনের ‘সহকারী’ এবং ছবি তোলার অনুরোধ এসেছিল এপস্টিনের পক্ষ থেকেই। তিনি স্বীকার করেন, এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন এবং জার্মানি, ফ্রান্স, ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্কে তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, এপস্টিনের কোনো বাড়িতে রাত কাটাননি এবং ক্যারিবীয় দ্বীপেও যাননি।
গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগ ছিল। সে সময় এপস্টিন ইতোমধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করেছিলেন। গেটস স্বীকার করেন, মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ২০১৩ সালেই এপস্টিন নিয়ে তাঁর অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন, তবুও তিনি সম্পর্ক চালিয়ে যান। ২০২১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
“এপস্টিনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল আমার বড় ভুল,” বলেন গেটস।
“এই ভুলের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা গেটস ফাউন্ডেশনের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
এদিকে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস সম্প্রতি এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিচ্ছেদের পর এই সব ‘অপ্রীতিকর বিষয়’ থেকে দূরে থাকতে পেরে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। তিনি বলেন, এসব প্রসঙ্গ উঠে এলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরে আসে। একই সঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au