বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার ৭৪.৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণের চাপে দেশ

  • 4:25 pm - March 10, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৪৪ বার

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ গত ১৬ বছরে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ৭৪.৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আট লাখ ৯২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা । এর মধ্যে ৩৯.৩১ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় চার লাখ ৭১ হাজার ৭২০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও মোট ঋণের পরিমাণ এবং পরিশোধের চাপ উভয়ই বেড়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮.১৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা, যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ২১ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণের একটি বড় অংশ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে, তবে অনেক প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় না আসায় ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সহজ শর্তের ঋণের পরিমাণ কমে আসছে এবং কঠোর শর্তযুক্ত ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য আরো সংকট তৈরি করতে পারে।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের খরচ গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারকে ৬.০৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।আগের বছরের তুলনায় এটি ২৭ শতাংশ বেশি।২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছিল ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা) এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে পরিশোধিত ঋণের পরিমাণ ছিল ৩.৬১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা)।বিশ্লেষকদের মতে, এই ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে। বিশেষ করে এই বাস্তবতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট কমার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমছে, কারণ রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনায় ঋণের বোঝা অনেক দ্রুত বাড়ছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে সরকারকে নতুন ঋণ নিয়ে পুরনো ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।

গত এক দশকে বাংলাদেশ বেশ কিছু বৃহত্ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু টানেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র। তবে অনেক প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় আসেনি, ফলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে আগামী কয়েক বছরে বেশ কিছু বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি এবং সুদ পরিশোধ একসঙ্গে শুরু হবে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল এবং মেট্রো রেলের মতো প্রকল্পগুলোর ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।

এই শাখার আরও খবর

সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি

মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…

ব্যাংক হিসাবের বাইরে রয়েছে গোপন সম্পদ? প্রশ্নের মুখে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

মেলবোর্ন ৭ মার্চ: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতি,…

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার অমর দিকনির্দেশনা

মেলবোর্ন ৭ মার্চ: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক অনন্য, অবিস্মরণীয় এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই…

খুলনায় জমি দখলে হিন্দু পরিবারের ওপর নির্মম হামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- খুলনার দৌলতপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি…

মালয়েশিয়ায় এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার জোবাইদুল আমিনের অপরাধ কী

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের হাতে মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি যুবক জোবাইদুল আমিনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন…

মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকার ১০ লিটার

মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে দেশে তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au