সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস তাদের নতুন অর্জিত লকহিড কনস্টেলেশন বিমানে সিডনি থেকে লন্ডনে প্রথম “সম্পূর্ণ কোয়ান্টাস ” পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছে। এই যাত্রাকে বলা হচ্ছে “ক্যাঙ্গারু রুট”। এটি কোনো সাধারণ যাত্রা নয়। চার দিনের এই যাত্রায় ডারউইন, সিঙ্গাপুর, কলকাতা, করাচি, কায়রো এবং ট্রিপোলিতে যাত্রাবিরতি রয়েছে, তারপরই গন্তব্যস্থল যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। (১৯৩৮ সালে চালু হওয়া ১০ দিনের “ফ্লাইং বোট” যাত্রার তুলনায় এটি অনেক দ্রুত।) ১৯৩৮ সালের সেই ফ্লাইং বোট বিমানটিতে মাত্র ২৯ জন যাত্রী, তিনজন পাইলট, একজন নেভিগেটর, একজন রেডিও অপারেটর, দুজন ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার এবং তিনজন কেবিন কেবিন ক্রু ছিল। মূল্য ছিল ৫২৫ পাউন্ড!
২০২৫ সালে এই ক্যাঙ্গার রুটের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৭,৪০০ পাউন্ড (প্রায় ২২,৪৫০ মার্কিন ডলার)। যাদের হাতে সময় এবং অর্থ দুটোই রয়েছে, তাদের জন্য লাক্সারি ট্রাভেল অপারেটর ক্যাপ্টেনস চয়েস ১৪ দিনের ট্যুর চালু করতে যাচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে”পাইওনিয়ারিং স্পিরিট অফ দ্য ক্যাঙ্গারু রুট”।
২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই ট্যুরটি ১৯৪৭ সালে কোয়ান্টাস পরিচালিত ফ্লাইট পথ অনুসরণ করবে। যাত্রীরা একটি চার্টার্ড কোয়ান্টাস এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ বিমানে উড়বেন, ডারউইন, সিঙ্গাপুর, কলকাতা, কলম্বো, কায়রো, টুলুজ এবং রোমে যাত্রাবিরতি করবেন, লাক্সারি হোটেলে থাকবেন এবং প্রতিটি গন্তব্যের বিশেষ বিশেষ হাইলাইটস উপভোগ করবেন।
ক্যাপ্টেনস চয়েসের সিইও বাস বোসচিটার বলেন, “এই আইকনিক রুটটি পুনরায় চালু করার কথা আমার দীর্ঘদিন মাথায় ছিল। অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য ক্যাঙ্গারু রুটের একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে।”
বোসচিটার উল্লেখ করেন যে এই যাত্রার পরিকল্পনা করবার জন্য কোয়ান্টাস অনেক সময় ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, তারা ঐতিহাসিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছেন এবং যাত্রার সময় মূল রুটের প্রতি কিছু সম্মান জানানো হয়েছে। “এর কিছু অংশ এখনও পরিকল্পনা করা হচ্ছে তবে এতে রেট্রো মার্চেন্ডাইজ, প্রাক্তন কোয়ান্টাস পাইলটদের গল্প শেয়ার করা এবং সম্ভবত আমাদের ওয়েলকাম ডিনারে একটি সুপার কনস্টেলেশন থাকবে।”
এই ট্রিপের প্রতিজনের মূল্য শুরু ৪৯,৯৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩১,০০০ মার্কিন ডলার)। প্যাকেজের সাথে খাবার, পানীয়, হোটেল, ট্যুর, ট্রান্সফার, টিপস এবং ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যাত্রীরা তাদের ব্যক্তিগত আগ্রহ অনুযায়ী তাদের যাত্রাবিরতি কাস্টমাইজ করতে পারবেন এবং কিছু ভিআইপি সুবিধাও উপভোগ করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, শ্রীলঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একটি এক্সক্লুসিভ ডিনারের আগে একজন কিংবদন্তি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারের সাথে দেখা করতে পারবেন। রোমে, তারা ভ্যাটিকান মিউজিয়ামের একটি আফটার-আওয়ার্স প্রাইভেট ট্যুর নিতে পারবেন। যাত্রার শেষের দিকে, ফ্রান্সের টুলুজে এয়ারবাস কারখানার একটি ইনসাইডার ট্যুর এবং একটি কনকর্ড জেটের ডানার নিচে ফেয়ারওয়েল ডিনারের আয়োজন করা হবে।
বোসচিটার সিএনএনকে বলেন, মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ এবং বিজনেস ক্লাসের স্পট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। “ইকোনমি ক্লাসে আমরা ২৬৯টি সিটের মধ্যে মাত্র ১৫০টি বিক্রি করছি যাতে আমাদের অতিথিরা আরও আরাম পেতে পারেন,” তিনি যোগ করেন।”
প্রত্যক অতিথি একটি উইন্ডো বা আইল সিটে বসবেন। বিমানের মধ্যে বিজনেস ক্লাস ক্যাটারিং এবং বিশ্বজুড়ে নন্দিত হ্যান্ড-পিকড ওয়াইন এবং অন্যান্য পানীয় উপভোগ করার সময় পাবেন।
কেন এই ট্রিপটি এত জনপ্রিয়?
সিইও বলেন, তিনি মনে করেন যে ক্যাঙ্গারু রুট অনেক অস্ট্রেলিয়ানের জন্য নস্টালজিয়ার অনুভূতি জাগায়। এটি সত্যিই জীবনে একটি অন্যরকম সুযোগ।”
পরবর্তী প্রজেক্ট সানরাইজ!
ক্যাপ্টেনস চয়েস ট্রিপে কোয়ান্টাস “প্রজেক্ট সানরাইজ” চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম ননস্টপ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
এই পরিষেবার মাধ্যমে সিডনি থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কে ফ্লাইট সরবরাহ করা হবে, যা বিশেষভাবে কনফিগার করা এয়ারবাস এ ৩৫০-১০০০ জেট দ্বারা পরিচালিত হবে, যার ফ্লাইট সময় সর্বোচ্চ ২০ ঘন্টা পর্যন্ত হবে। প্রজেক্ট সানরাইজ প্রথম ঘোষণা করা হয় ২০১৭ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনে যাওয়ার পথে পার্থ থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত গোপন, বিপদসংকুল ফ্লাইট থেকে এই নামটি অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এই ফ্লাইট গুলো এত দীর্ঘ সময়ের ছিল যে পাইলটরা দুটি সূর্যোদয় দেখেছিলেন। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রজেক্ট সানরাইজ চালু করবার কথা রয়েছে।
কার্লা ক্রিপস, সিএনএন, ট্রাভেল (বাংলায় অনূদিত)
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au