ইসরায়েলের নির্বাচনে কে কী বললেন, আর ফলাফলে কার অবস্থান কোথায়?
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দল বা জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে নেই। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হওয়াই দেশের বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে।
ডব্লিউএইচও-এর ঢাকা কার্যালয় বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে প্রথম আলোকে জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশ দুই বছরের কম বয়সী। এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের কম। সংক্রমণ রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি। রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দারবান জেলায় হাম ধরা পড়েনি।
২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও সম্প্রতি সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার ২০২২–২০২৫ সালে ১–এর নিচে থাকলেও বর্তমানে তা ১৬ দশমিক ৮। ৩০ মার্চ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৯০, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংক্রমণের মূল কারণ হলো দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার ডোজ না পাওয়া। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ২০১৯ ও ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী ১২ মাস বয়সের মধ্যে পূর্ণ টিকাদানের হার যথাক্রমে ৮৩.৯% ও ৮১.৬% ছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানে বাধা ও বিভিন্ন কারণে শূন্য বা আংশিক টিকা প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানায়, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব যদি রোগী শনাক্তকরণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শক্তিশালী করা হয় এবং আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উচ্চ হারে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়। অন্যথায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি বজায় থাকলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং নতুন এলাকায় ছড়িয়ে যেতে পারে।
সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারের উচিত দ্রুত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের শিশুর জন্য জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো, নজরদারি জোরদার করা, রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও ভিটামিন এ প্রদানের ব্যবস্থা করা, ঝুঁকি যোগাযোগ বৃদ্ধি করা এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির দক্ষতা বাড়ানো।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেছেন, শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে উপযুক্ত জনবল স্থাপন এবং কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া যাবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au