সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক মারা গেছেন
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল- মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর-শিবালয়) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে…
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল: ইহুদিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে সমালোচিত এক ইসলামিক বক্তাকে অস্ট্রেলিয়ায় ভিজিটর ভিসা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই ধরনের মন্তব্যের কারণে আরেকজন ধর্মীয় বক্তাকে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সানডে হেরাল্ড সান জানিয়েছে, বাংলাদেশি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহকে মেলবোর্নে দেখা গেছে। বাংলাদেশী ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ “A Legacy of Faith (এ লিগ্যাসি অফ ফেইথ)” শীর্ষক বক্তৃতা সফরে অংশ নেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মেলবোর্নে আইপিডিসির (IPDC) অনুষ্ঠানে সফলভাবে বক্তব্য রাখলেও শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সিডনির অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেননি। এর বদলে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি ভক্তদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সিডনিতে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। গত এক সপ্তাহে তিনিই দ্বিতীয় ইসলামিক বক্তা, যিনি ইহুদিবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশি আরেক ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি, যিনি ইহুদিদের “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং হিটলারের প্রশংসা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকেও ভিসা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে বৃহস্পতিবার দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এবং ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
আজহারিও “এ লিগ্যাসি অফ ফেইথ” সফরের প্রধান বক্তাদের একজন হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আহমাদুল্লাহর পূর্বের কিছু বক্তব্যের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি দাবি করেছেন যে ইহুদিরা “বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে” এবং বিভিন্ন সংঘাতের পেছনে তাদের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, “কোরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্য যেকোনো সম্প্রদায়ের তুলনায় ইহুদিদের বিরুদ্ধে বেশি সমালোচনা রয়েছে।”
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর মাইকেলিয়া ক্যাশ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এটা যেন বিশ্বাসই করা যাচ্ছে না—আলবেনিজ লেবার সরকারের আমলে আবারও একজন ইসলামিক ঘৃণাবাদী বক্তাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আসলে কী হচ্ছে?”
তিনি আরও বলেন, “অস্ট্রেলিয়া একটি পশ্চিমা দেশ, যার নিজস্ব মূল্যবোধ রয়েছে। কেউ যদি এখানে এসে ঘৃণা ছড়াতে বা সেই মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাহলে তাকে কখনোই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”
সরকারের সমালোচনা করে ক্যাশ অভিযোগ করেন, “এই সরকার তখনই পদক্ষেপ নেয়, যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আর তখন তারা কেবল ক্ষতি হওয়ার পর তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।”

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর মাইকেলিয়া ক্যাশ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। Facebook
শেষে তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে।”
এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কমিউনিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, “ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রদানকারী বক্তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au