মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা এসেছে। জাপান নিশ্চিত করেছে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলেও তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্বাভাবিক মাত্রায় জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। একই সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সম্ভাব্য অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যা দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। জাপান সেখানেই আশ্বস্ত করে যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি প্রবাহ বজায় থাকবে। একই ধরনের আশ্বাস দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও পাওয়া গেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাকে আপাতত স্থিতিশীল রাখছে।
এদিকে জাপানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি শিগগিরই অস্ট্রেলিয়া সফর করতে পারেন। সফরে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এখনো এ সফর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি, তবে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা সংঘাতের কারণে চাপে রয়েছে। এর প্রভাব এশিয়ার জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে তেল সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনায় আনছে অনেক দেশ।
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ৩৯ দিনের পেট্রোল, ২৯ দিনের ডিজেল এবং ৩০ দিনের জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি আগামী এক মাসে ৫০টির বেশি জ্বালানি চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের কৌশল অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ