জ্বালানি সংকটে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন- ছবি: কামরুল ইসলাম রুবাইয়াৎ (The Daily Star)
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল: ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি ভূরাজনীতির মাধ্যমে নয়, বরং জ্বালানি সরবরাহ, পণ্যমূল্য, পরিবহন ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, পরিবহন সূচি কমে আসছে এবং শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার ফলে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে, পাশাপাশি এলএনজি বাজারও চাপে রয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধজনিত ঝুঁকি বীমা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমদানি পণ্যের খরচ আরও বাড়ছে।
ডেইলি স্টার-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সংকট একাধিক খাতে একযোগে আঘাত হানছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে, সারের দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে চাপ তৈরি করছে, আর পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমদানি পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে কেবল মূল্যবৃদ্ধিই নয়, সরবরাহ সংকটও বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর। আমদানি ব্যয় বাড়লেও রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা সুরক্ষা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা পর্যাপ্ত নয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো চাপ দেশীয় বাজারে না পড়তে দিলেও এতে বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি ধীরে ধীরে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনের সারকথা হলো—ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের নতুন কোনো দুর্বলতা তৈরি করেনি, বরং আগে থেকেই বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত, বাস্তবমুখী এবং সমন্বিত নীতি পদক্ষেপ, যাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।