অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- তামিল টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুভাষিনীর মরদেহ চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাই এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটে।…
মেলবোর্ন,৬ এপ্রিল: অস্ট্রেলিয়ায় আবারও আলোচনায় উঠেছে বিদেশি ধর্মীয় বক্তাদের ভিসা ইস্যু। ইহুদিদের সম্পর্কে বিতর্কিত ও ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী গণমাধ্যম The Daily Telegraph-এর শিরোনাম ছিল—“No place for hatred here”। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘৃণামূলক বক্তব্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে পুনরায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে।
বিরোধী জোটের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মিচেলিয়া ক্যাশ বলেন, শায়খ আহমাদুল্লাহকে শুরুতেই ভিসা দেওয়া উচিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শায়খ আহমাদুল্লাহ গত শনিবার সিডনি ত্যাগ করার পরপরই তার ভিসা বাতিল করা হয়। ফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পুনরায় প্রবেশ করতে পারবেন না। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে কি না—সে বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তার এই আকস্মিক প্রস্থান এবং ভিসা বাতিলের কারণে সিডনির পাঞ্চবাউলে নির্ধারিত “Legacy of Faith” (এ লিগ্যাসি অফ ফেইথ) শীর্ষক একটি বক্তব্য অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিতে পারেননি।
এর আগে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শায়খ আহমাদুল্লাহ বিভিন্ন বক্তব্যে ইহুদিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার পেছনে ইহুদিদের ভূমিকা রয়েছে এবং তারা “পাপেটিয়ার” বা নেপথ্যের নিয়ন্ত্রক। এছাড়া তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে, বৈশ্বিক নানা সমস্যার জন্য ইহুদিরা দায়ী—যা অস্ট্রেলিয়ার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আইপিডিসির সাবেক সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট ড. রফিকুল ইসলাম বিমানবন্দরে শায়খ আহমদউল্লাহকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।ছবি: Facebook
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ মার্চ “বিদেশ বাংলা” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, আইপিডিসি (Islamic Practice and Dawah Circle)-এর আয়োজনে ‘লিগ্যাসি অফ ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমদউল্লাহ এবং মিজানুর রহমান আজহারী অস্ট্রেলিয়ার পৌঁছেছেন। এই আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী আইপিডিসি সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আইপিডিসির সাবেক সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট ড. রফিকুল ইসলাম বিমানবন্দরে শায়খ আহমদউল্লাহকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন আইপিডিসি–এর উদ্যোগে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কর্মসূচির লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়, প্রবাস জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা জোরদার করা, নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও আত্মিক উন্নয়নের পথে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি মূল্যবোধভিত্তিক ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গড়ে তোলা।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী ম্যাট থিস্টলেথবীতে জানিয়েছেন, সরকার এ ধরনের বক্তব্যের প্রতি কোনো সহনশীলতা দেখাবে না। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ধরনের ইহুদিবিদ্বেষ বা ইসলামবিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে সহ্য করি না। মাইগ্রেশন আইনের আওতায় আমাদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মন্তব্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরই সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনারও তুলনা করা হচ্ছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া সরকার মৌলবাদী ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে এবং তাকে স্থায়ীভাবে পুনরায় প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারও বক্তব্য বা কার্যকলাপ অস্ট্রেলিয়ার মূল্যবোধের পরিপন্থী হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরোধী জোটের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মিচেলিয়া ক্যাশ বলেন, শায়খ আহমাদুল্লাহকে শুরুতেই ভিসা দেওয়া উচিত হয়নি। তার মতে, এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি ধর্মীয় বক্তাদের নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। বিশেষ করে ঘৃণামূলক বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নে সরকার এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
-The Daily Telegraph
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au