সংসদে বাদ পড়ছে গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের…
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল: অস্ট্রেলিয়া সরকার মৌলবাদী ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তাকে স্থায়ীভাবে পুনরায় প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম The Daily Telegraph–এর অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজহারীর অতীতের বিতর্কিত বক্তব্য—যার মধ্যে ইহুদিদের “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যা দেওয়া এবং এডলফ হিটলারের প্রশংসা—দেশটির মূল্যবোধ ও সামাজিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভবিষ্যতে তার দেশে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইপিডিসির আয়োজনে ‘লিগ্যাসি অফ ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় আসা বিভিন্ন ইসলামী বক্তাদের ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি আইপিডিসি সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এই বহিষ্কারের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খবরে প্রকাশ এর আগে আজহারিকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে তাকে বক্তৃতা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি উগ্র হিংসাত্মক ও সাম্প্রদায়িক বক্তৃতা দিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ান।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম বলেছিলেন,, ‘আজহারীর আগমনের বিষয়ে কমিউনিটির বিভিন্ন সংস্থা এবং সংসদ সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছিল । বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় সংস্থাগুলি আমাদেরকে এ নিয়ে বার্তা দিয়েছিল।’
মিজানুর রহমান আজহারির ব্যাখ্যা

সংবাদ সংশ্লিষ্টতায় উল্লেখ্য, বহিষ্কারের খবরের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মিজানুর রহমান আজহারী (Facebook থেকে)।
এদিকে বহিষ্কারের খবরের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মিজানুর রহমান আজহারী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে তিনি গত পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। তার সফর নিয়ে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তা বিদেশি একটি প্রতিবেদনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে তার কোনো সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অসত্য, কারণ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে এখনো পর্যন্ত তিনি কোনো বক্তব্য দেননি—যা সাংবাদিকদের পক্ষেও সহজেই যাচাইযোগ্য।
আজহারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে বক্তাদের সফর ঘিরে চাপ বা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয় এবং তার ক্ষেত্রেও তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে পুরনো ও বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে অতীতে যুক্তরাজ্য সফরেও বাধা সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওই বক্তা অতীতে ইহুদিদের “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এডলফ হিটলারকে প্রশংসা করেছেন—যা অস্ট্রেলিয়ার মূল্যবোধ ও সামাজিক নীতির পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এর আগে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক আজহারীর ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার মনে করছে, তার উপস্থিতি দেশটির সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতীতে তার দেওয়া কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কিত মন্তব্যকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালেও যুক্তরাজ্যে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন আজহারী। সে সময় লন্ডনে তার একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তার ভিসা বাতিল করে দেয় এবং তাকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ মার্চ “বিদেশ বাংলা” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, আইপিডিসি (Islamic Practice and Dawah Circle)-এর আয়োজনে ‘লিগ্যাসি অফ ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমদউল্লাহ এবং মিজানুর রহমান আজহারী অস্ট্রেলিয়ার পৌঁছেছেন। এই আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী আইপিডিসি সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আইপিডিসির সাবেক সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট ড. রফিকুল ইসলাম বিমানবন্দরে শায়খ আহমদউল্লাহকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন আইপিডিসি–এর উদ্যোগে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কর্মসূচির লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়, প্রবাস জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা জোরদার করা, নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও আত্মিক উন্নয়নের পথে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি মূল্যবোধভিত্তিক ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গড়ে তোলা।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ব্রিসবেন ইসলামিক কলেজে প্রথম অনুষ্ঠান এরপর ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন হবার কথা।
আইপিডিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সপরিবারে এই আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন।
তবে বিতর্কিত বক্তার বহিষ্কারের ঘটনায় এই আয়োজনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার বহিষ্কার এই আয়োজনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো বহুসাংস্কৃতিক সমাজে ঘৃণামূলক বক্তব্য বা চরমপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au