শেরপুর-৩ আসনেও বড় ব্যবধানে জিতলেন বিএনপি প্রার্থী
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা…
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই আসনের ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং পরিস্থিতি সন্তোষজনক। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে যে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বজায় রাখতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। তবে তপশিল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-২ আসনে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলে সেটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর একই দিনে শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের জন্য নতুন করে তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট আগেই জয়ী হওয়ায় এই দুই আসনে আলাদাভাবে আর গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) দলের মিজানুর রহমান। এই আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে মোট চার লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ১৮ থেকে ২০ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক মাঠে রয়েছেন।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল-আমিন তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম। এই আসনে ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৮৩৫টি ভোটকক্ষে মোট চার লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীর ২৫০ সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৮ প্লাটুন, র্যাবের ১০টি দল, পুলিশের এক হাজার ৩২৭ সদস্য এবং আনসার ও ভিডিপির এক হাজার ৯৯০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে দুই আসনের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমেও ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসন ও শেরপুর-৩ আসনে মোট সাত হাজার ৩০৯ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে প্রবাসী এক হাজার ২৮১ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে দুই হাজার ৪৫৫ জন ভোটারকে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে প্রবাসী ৩৮৩ জন এবং দেশের ভেতরে তিন হাজার ১৯০ জন ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে তিনজন প্রবাসী ভোটার ও ৬১৬ জন দেশের ভেতরের ভোটার তাদের ব্যালট পাঠিয়েছেন। শেরপুর-৩ আসনে প্রবাসী একজন এবং দেশের অভ্যন্তরের এক হাজার ২৪৫ জন ভোটারের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au