রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা-ভাঙচুর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- রংপুর মহানগরীতে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ এবং নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদকদ্রব্য বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া বাজার এলাকায় রাকিব হাসান (১৭) নামে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। রংপুর শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কামাল কাছনা দাসপাড়া এলাকায়, যা স্থানীয়ভাবে মাছুয়াপাড়া নামে পরিচিত, সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা রাতের দিকে এলাকায় প্রবেশ করে কয়েকটি সনাতনী পরিবারের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালায়। এতে একাধিক বাড়ির আসবাবপত্র ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু বাসীন্দাদের দাবি, রাকিব হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও নিহত উভয়ই মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও পরদিন নিরীহ সনাতনী পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে হিন্দু পরিবারগুলো যুক্ত নয়।
পুলিশ জানায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বৈরাগীপাড়া এলাকার মমিন নামের এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলার পর থেকেই রাকিবের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মমিন ও তার কয়েকজন সহযোগী রাকিবকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মাছুয়াপাড়া বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ রহমান জানান, অভিযুক্ত মমিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার কারণেই রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় বসবাসরত সংখ্যালঘু পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। অনেকে আতঙ্কে রাতে ঘর থেকে বের না হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে কাজ চলছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো থমথমে অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।