‘মার্কিন অবরোধের হুমকিতে বন্ধ হতে পারে ইরানের তেল বিক্রি’
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ইরানের তেল…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- হাঙ্গেরির রক্ষণশীল নেতা ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। দেশটির জাতীয় নির্বাচনে তাকে পরাজিত করেছে কেন্দ্র-ডানপন্থী নতুন রাজনৈতিক দল টিসা পার্টি। এই ফলাফলকে শুধু হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৬২ বছর বয়সী ভিক্টর অরবান দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি “ইলিবারাল ডেমোক্রেসি” বা অনুদার গণতন্ত্রের ধারণাকে সামনে এনে হাঙ্গেরিতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়তে থাকে যে, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক এককেন্দ্রিকতা এবং ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মাধ্যমে সম্পদ কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা দেশকে অস্থির করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত ভোটারদের বড় একটি অংশ পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, নবগঠিত কেন্দ্র-ডানপন্থী টিসা পার্টি বড় ধরনের জয় পেয়েছে। দলটির নেতা ৪৫ বছর বয়সী পিটার মাগয়ার এখন দেশটির সংসদে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। ১৯৯ আসনের সংসদে টিসা পার্টি ১৩৮টির মতো আসন পাওয়ার পথে রয়েছে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি।
এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাকে সুযোগ দেবে সংবিধান সংশোধনসহ অরবানের সময়কার বিভিন্ন কাঠামোগত পরিবর্তন পুনর্বিবেচনা করার।
বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে হাজারো সমর্থকের সামনে বিজয় ভাষণ দেন পিটার মাগয়ার। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে তিনি বলেন, দেশবাসী একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং পুরনো শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়েছে।

বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে হাজারো সমর্থকের সামনে বিজয় ভাষণ দেন পিটার মাগয়ার। ছবিঃ সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর স্পিকার থেকে বাজছিল “মাই ওয়ে” গানটি। সমর্থকদের অনেকের মতে, এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক।
অরবানের পরাজয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রাসেলসের নীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন, বিশেষ করে ইউক্রেনকে দেওয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা বিষয়ে। তার অবস্থানের কারণে ইউক্রেনের জন্য বড় একটি সহায়তা প্যাকেজও আটকে ছিল বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্ব ইউরোপীয় মূলধারার রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকবে এবং ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে আগের বাধাগুলো দূর হতে পারে।
অরবানকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হতো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ পশ্চিমের কিছু রক্ষণশীল নেতারও তিনি সমর্থন পেয়েছিলেন।
তবে এই নির্বাচনী ফলাফল সেই কূটনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ডানপন্থী রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পিটার মাগয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এটি ইউরোপের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েনও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হাঙ্গেরি এখন ইউরোপীয় মূলধারার নীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একজন নেতার পরাজয় নয়, বরং হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের সূচনা। দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ ছিল অরবানের বিরুদ্ধে বড় ইস্যু।
নতুন সরকার এই কাঠামো ভাঙতে সক্ষম হবে কি না, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনের রাতে বুদাপেস্টে উপস্থিত তরুণ ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। ২৪ বছর বয়সী এক ভোটার জানান, তারা মনে করছেন এটি বহুদিন পর দেশ পরিবর্তনের একটি বড় সুযোগ।
তবে একই সঙ্গে অরবানের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগও দেখা গেছে।
হাঙ্গেরির এই নির্বাচনী ফলাফল শুধু একটি সরকার পরিবর্তন নয়, বরং ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে পিটার মাগয়ার কতটা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন, এবং হাঙ্গেরি কতটা দ্রুত ইউরোপীয় মূলধারায় ফিরে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au