‘মার্কিন অবরোধের হুমকিতে বন্ধ হতে পারে ইরানের তেল বিক্রি’
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ইরানের তেল…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত কিডনি বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি ছিলেন এক নম্বর আসামি।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা সোমবার পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মঈন উদ্দিনসহ এ ঘটনায় মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তবে বাকি ছয়জনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে একই মামলায় আরও চারজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া মঈন উদ্দিন নিজেকে শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয় পর্যায়ে তার ওই পরিচয় অস্বীকার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
কী নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. কামরুল ইসলামের মালিকানাধীন সিকেডি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল একটি চক্র। চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি, হুমকি এবং সামাজিকভাবে হয়রানির অভিযোগও উঠে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মঈন উদ্দিন কয়েকজন সহযোগী নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং চাঁদা দাবি করে হুমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে “আওয়ামী লীগ ট্যাগ” দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয় এবং হাসপাতালের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরিরও চেষ্টা চালানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১০ এপ্রিল সকালে শ্যামলীর তিন নম্বর রোডে হাসপাতাল মালিকের বাসার সামনে গিয়ে মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা সরাসরি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা হুমকি-ধমকি দেন এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আরও লোকজন জড়ো করে সংখ্যায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনে পরিণত করা হয় এবং পরে তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই সময় তারা হাসপাতালের সামনে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকে এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে।
এছাড়া হাসপাতাল মালিককে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক স্লোগানও দেওয়া হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।
ঘটনার পরপরই র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঈন উদ্দিনের চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. সুমন ও মো. লিটন মিয়া। সর্বশেষ অভিযানে মূল অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন নিজেকে যুবদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তারা ডা. কামরুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ডা. কামরুল ইসলাম দেশে কিডনি চিকিৎসায় একজন পরিচিত নাম। তিনি দুই হাজারের বেশি রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন বিনা পারিশ্রমিকে। মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক অর্জন করেন।
পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঁদাবাজি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় রাজধানীতে চিকিৎসা খাতের নিরাপত্তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি চক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au