মেলবোর্নে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল: মেলবোর্নে বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অফ ভিক্টোরিয়ার উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আয়োজন। ১১ এপ্রিল…
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য উন্নত চিপের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্সড চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) টানা চতুর্থ প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফা অর্জনের পথে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময়ে এআই অবকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বাড়ায় কোম্পানির আয় ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিএসএমসির অত্যাধুনিক ৩ ন্যানোমিটার চিপ প্রযুক্তি এবং উন্নত প্যাকেজিং সিস্টেমের চাহিদা এতটাই বেশি যে তা কোম্পানির বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এআই চিপ উৎপাদনের জন্য টিএসএমসি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের একটি, যার মধ্যে এনভিডিয়া এবং অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা রয়েছে। এর ফলে কোম্পানির বাজারমূল্য দ্রুত বেড়ে প্রায় ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রায় দ্বিগুণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে টিএসএমসির নিট মুনাফা প্রায় ৫৪২.৬ বিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি গড় অনুমান, যেখানে ১৯ জন বিশ্লেষকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যদি মুনাফা ৫০৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়, তবে সেটি হবে কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা। পাশাপাশি এটি টানা নবম প্রান্তিক হবে, যেখানে কোম্পানির লাভ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে টিএসএমসি ৩৫ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি ঘোষণা করে, যা বাজার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির আয় আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির অব্যাহত চাহিদা এবং উন্নত চিপ উৎপাদন সক্ষমতার কারণে। প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারি ক্যাপিটালের বিশ্লেষক আর্থার লাই জানিয়েছেন, ধারাবাহিকভাবে উচ্চ চাহিদা থাকায় টিএসএমসি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় হিলিয়াম ও নিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, টিএসএমসি এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
আইডিসির গবেষণা পরিচালক গ্যালেন জেং বলেছেন, কোম্পানির বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত মজুত স্বল্পমেয়াদে যেকোনো বিঘ্ন সামাল দিতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টি এখন কোম্পানির ২০২৬ সালের মূলধন ব্যয় পরিকল্পনার দিকে। ধারণা করা হচ্ছে, এআই খাতে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার কারণে টিএসএমসি তার বিনিয়োগ পরিকল্পনা আরও বাড়াতে পারে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে চিপ কারখানা নির্মাণ করছে। পাশাপাশি জাপানে তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে সেখানে উন্নত ৩ ন্যানোমিটার চিপ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত টিএসএমসির তাইওয়ান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে, যা সামগ্রিক বাজার প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির এই উত্থান আগামী দিনগুলোতে টিএসএমসিকে আরও উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au