মমতার গলার কাঁটা হয়ে ভোটের সাত দিন আগে দল ছাড়লেন বিদায়ী বিধায়ক
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় সেখানে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানকে আলোচনার টেবিলে এনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও জোরদার করছে।
মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, খুব শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হবে। এদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ-এ অবস্থানরত প্রায় ছয় হাজার সেনা এবং এর নিরাপত্তায় নিয়োজিত যুদ্ধজাহাজগুলোর সদস্যরা। পাশাপাশি বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে থাকা ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সদস্য চলতি মাসের শেষ দিকে ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই বাহিনী ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আনুমানিক ৫০ হাজার মার্কিন সেনা সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার আগেই এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানকে আরও চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক পদক্ষেপও জোরদার করছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া-আসা করা নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দি য়েছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে বাধ্য করা, যাতে তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখে। পারস্য উপসাগর দিয়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পথও খোলা রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহান্তের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবে শিগগিরই আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুতই শেষ হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, ইরানকে যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা যায়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হবে এবং গ্যাসের দামও দ্রুত কমে আসবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন কৌশলগত চাপ বাড়ানোর একটি অংশ। মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস ফগো বলেন, নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আরও বেশি সামরিক বিকল্প তৈরি হবে। তার ভাষায়, “যত বেশি সক্ষমতা থাকবে, তত বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।”
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে না আসে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছালে ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন থাকবে, প্রতিটিতে থাকবে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। নতুন করে যোগ দেবে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন নজর রয়েছে আসন্ন যুদ্ধবিরতির সময়সীমা এবং সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার দিকে, যা এই সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্রঃ ওয়াশিংটন পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au