মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- সোমালিল্যান্ডে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইসরায়েল। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশসহ ১২টি মুসলিম দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মিশর, সোমালিয়া, সুদান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তারা বলেন, তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’-এ প্রতিনিধি নিয়োগের উদ্যোগ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়, কোনো দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মেনে নিতে পারে না। তারা আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের এই উদ্যোগ জাতিসংঘ সনদ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের নীতিমালারও পরিপন্থি, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গের সামিল এবং একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল আগে থেকেই ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসরায়েল একমাত্র দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়, যা সোমালিয়া সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। সোমালিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সোমালিল্যান্ডকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।