মেলবোর্নে সাকাভের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন। ছবি: ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল: মেলবোর্নে সনাতন আর্ট অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ভিক্টোরিয়া (SACAV)-এর উদ্যোগে গত ১৯ এপ্রিল, রোববার হপার্স ক্রসিংয়ের গ্র্যাঞ্জ পি-৯ কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে।
“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” গানের সুরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নববর্ষকে বরণ করে নেন প্রবাসী বাঙালিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল শুভেচ্ছা বিনিময়।

ভালোবাসা আর আড্ডার উচ্ছ্বাসে পহেলা বৈশাখে মেতে উঠেছেন প্রবাসী বাঙালি ললনারা। ছবি: ওটিএন বাংলা
বাঙালির চিরচারিত মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক পর্বের সূচনা হয়। এরপর একে একে সংগঠনের সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা জমিয়ে তোলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি রাসেন্দ্র কুমার দাস বলেন, প্রবাসে বসেও সব ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শের মানুষ একসঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের সব বিভেদ ও দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই মিলে বাংলা সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শুভজিৎ রায় বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” তিনি জানান, সাকাভের মূল লক্ষ্য ‘হেরিটেজ, হারমনি এবং হিউম্যানিটি’—এই তিন আদর্শকে সামনে রেখে প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন ও উদযাপন করা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইন্দ্রা ঘোষ।
উৎসবে আগত সদস্যরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসের মাটিতে সবার সঙ্গে একসঙ্গে পহেলা বৈশাখ উদযাপন এক ভিন্নরকম ভালো লাগা ও ভালোবাসার অনুভূতি এনে দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ইফতিখার সাদিক ওটিএন বাংলাকে জানান, এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ। তিনি বলেন, এই আয়োজনের মূল বার্তা হলো—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসব সবার, আর পহেলা বৈশাখও সবার জন্যই একটি মিলনমেলা।

বৈশাখী আয়োজনে বাঙালিয়ানার স্বাদে অন্যতম প্রিয় আকর্ষণ ঝালমুড়ি। ছবি: ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার। পান্তা-ইলিশ, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, ঝালমুড়ি, পিঠা, পায়েস ও লুচিসহ নানা মুখরোচক খাবারে পরিপূর্ণ ছিল রাতের ডিনার, যা অতিথিদের জন্য বাড়তি আনন্দ যোগ করে।