কোন উদ্দেশ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক…
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
রোববার বিরুধুনগরের কাট্টানারপট্টি এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অঞ্চলটি আতশবাজি ও পটকা তৈরির জন্য পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পরপরই কারখানাটির একাধিক ভবন ধসে পড়ে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দমকলকর্মীদের মধ্যেও একজন আহত হন।
স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালে আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে পুলিশ, দমকল, রাজস্ব বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় ১৩ জন আহত হন। আহত উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে কেউই গুরুতর অবস্থায় নেই বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বিরুধুনগরের জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ।
তিনি আরও জানান, ছয়জন আহত ব্যক্তি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, দাহ্য রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এ ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।
ঘটনার পরপরই প্রশাসন উচ্চপদস্থ এক আইএএস কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি একটি মামলা (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন জানিয়েছেন, তিনি দুই মন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন যাতে তারা উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে পারেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, রোববার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কারখানাটিতে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে।
আহতদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au