কঠোর নিরাপত্তা বিধিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরল ইউএইর শিক্ষার্থীরা
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ দূরশিক্ষণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে লাখো শিক্ষার্থী। সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে স্কুল,…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের প্রধান হাবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী পপি খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে তাদের দুই সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় গুরুতর আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত পারভেজ স্থানীয় বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সোমবার (২০ এপ্রিল) মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। তাঁর সঙ্গে ওই সময় গরু বিক্রির প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টাকাই লুট করার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এছাড়া বাড়িতে থাকা কিছু স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতি এবং লুটের সময় পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুরো পরিবারকে হত্যা করা হতে পারে।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে লুটের সময় বাধা বা পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিল। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক হয়ে পড়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে এবং এর পেছনে গভীর কোনো শত্রুতা বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিটও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ঘটনার সময়সূচি নির্ধারণে কাজ চলছে। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ডাকাতি ছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে পুলিশের একাধিক দল সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে অগ্রগতি হলে দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ধরন, সময় এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au