দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই পদত্যাগ নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- মাত্র ২৭ দিনের ব্যবধানে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি তদন্তে থাকা ব্যবসায়ী দীপক ভট্টর সঙ্গে তার ব্যবসায়িক…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- ফিজির ভুদা পয়েন্টে প্রস্তাবিত একটি বর্জ্য-থেকে-বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ইয়ান মালুফের সমর্থনে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় ও বিদেশি বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নিয়ে পরিবেশ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা।
প্রস্তাবিত এই ইনসিনারেটর স্থাপনাটি বছরে প্রায় ৯ লাখ টন বর্জ্য পোড়াতে সক্ষম হবে এবং সর্বোচ্চ ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিজির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ পূরণ সম্ভব হবে, যা দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রকল্পটি একটি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য দেশ থেকে বর্জ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। তবে এ পরিকল্পনাই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, উন্নত দেশগুলোর বর্জ্য ফিজিতে এনে পোড়ানোর উদ্যোগটি “বর্জ্য উপনিবেশবাদ”-এর শামিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের কাছে এ ধরনের স্থাপনা নির্মিত হলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভুদা অঞ্চলের প্যারামাউন্ট চিফ ‘তুই ভুদা’ এবং লাউওয়াকি গ্রামের লেডি চিফ এই প্রকল্পের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন।
লাউওয়াকি গ্রামের লেডি চিফের মুখপাত্র জোসাতেকি কেলি বলেন, ফিজির অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর এবং দেশটি এমন বিনিয়োগই চায়, যা স্থানীয় জনগণের কল্যাণে আসে ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তিনি জানান, একটি ৫০০ কক্ষের রিসোর্টসহ পর্যটন প্রকল্পের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
ফিজির পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে তুই ভুদা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভুদা জেলা এই প্রকল্পের সঙ্গে আর কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন দেবে না। চিঠিতে বলা হয়, পরিবেশ ও ঐতিহ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এটি মূলত ফিজির নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্যই পরিকল্পিত। কুকাই ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মালুফের ব্যবসায়িক অংশীদার রবার্ট ক্রম্ব বলেন, ফিজিতে উৎপন্ন বর্জ্য, আমদানিকৃত পণ্যের বর্জ্য এবং পর্যটনের কারণে সৃষ্ট বর্জ্যকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ফিজিতে বছরে আনুমানিক ২ লাখ টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। অনিয়ন্ত্রিত ডাম্পিং ও উন্মুক্ত পোড়ানোর কারণে প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, ৮৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় বর্জ্য পোড়িয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। অবশিষ্ট ছাইয়ের একটি অংশ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা যাবে, আর ধাতব অংশ পুনর্ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে জনপরামর্শ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন ফিজি সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো প্রকল্পটি। তবে স্থানীয়দের তীব্র বিরোধিতা এবং পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au