বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে আদানির ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি যখন আগে থেকেই চাপের মধ্যে, তখন ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে বড় ধরনের কারিগরি…
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হচ্ছে, যা পুরো নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আজ ভোটগ্রহণ চলছে। এই পর্যায়ে রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি আসনে ভোট হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এটি এক ধরনের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সকাল ৭ টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।
গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ১৫২টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনগুলোর মধ্যে ৯২টিতে জয় পায় তৃণমূল, আর বিজেপি পায় ৫৯টি আসন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে এই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। সেখানে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৭৭টি আসনে এবং বিজেপি ৫৩টিতে। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটও কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ১২টি আসনে এগিয়ে ছিল, যা নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় সংখ্যালঘু ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। এসব জেলায় মোট ৪৩টি আসন রয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি আসনেই সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। যদিও এখানে ভোট বিভাজনের নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তবুও শেষ পর্যন্ত সেই ভোট কতটা বিভক্ত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। একইসঙ্গে বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ-ও এসব এলাকায় সক্রিয় থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, দুই মেদিনীপুর ও পশ্চিম বর্ধমানের কিছু এলাকায় হিন্দু ভোটের মেরুকরণ স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে বিজেপির পক্ষে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজবংশী ভোটও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে। আগের নির্বাচনে এই ভোটের বড় অংশ বিজেপির পক্ষে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল এই ভোটব্যাংক ভাঙার চেষ্টা চালিয়েছে। একইভাবে তফসিলি ও আদিবাসী ভোটও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ভোট নিয়ে দুই প্রধান দলই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে নতুন একটি বিষয় হলো ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়া। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম দফার এই ১৬টি জেলায় ৪০ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ গেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে শুধু মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরেই প্রায় ১৬ লাখ নাম বাদ পড়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে এবং এর প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রথম দফার ভোট মূলত পুরো নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ, এখানে যে দল এগিয়ে থাকবে, তারা পরবর্তী দফাগুলোতে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পাবে। তাই তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়ই এই দফায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে ভালো ফল করার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার এই ভোট শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর ভোটারদের সিদ্ধান্তের দিকে, যা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল হবে কি না।
সূত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au