বিজেপি বলছে আমরা জিতেছি, তৃণমূলও তাই- আসলে কী
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ। ১৫২টি আসনে রেকর্ড ভোটদানের…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (বিএএফ) ভেতরে কিছু সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সম্ভাব্য যোগাযোগের অভিযোগে ব্যাপক গোয়েন্দা অভিযান চালানো হয়েছে। নর্থইস্ট নিউজের প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর বিমানবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং নিজস্ব সদস্যদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই গোয়েন্দা তৎপরতা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোরের একাধিক বিমানঘাঁটি জুড়ে পরিচালিত হয়। দীর্ঘ সময়ের নজরদারি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল ভোরে ঢাকার অন্তত দুটি বিমানঘাঁটিতে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এতে দুইজন কর্মকর্তা আটক হন এবং আরও অন্তত ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। একই সময়ে ৯ থেকে ১০ জন সদস্য পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
আটক হওয়া দুই কর্মকর্তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর থেকেও এই অভিযান, আটক কিংবা পলাতক সদস্যদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যের সঙ্গে টিটিপির যোগাযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরে ছিলেন। অভিযানের ধারাবাহিকতায় জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া বিমানসেনাদের মধ্যে চারজন আগেই পাকিস্তান, পর্তুগাল, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অপ্রমাণিত কিছু তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুইজন সেনা কর্মকর্তাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
অভিযানের পরপরই বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ঘাঁটিগুলোতে কর্মরত বেসামরিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, যাদের লক্ষ্য করে এই বিস্তৃত তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে টিটিপির সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ থাকতে পারে। এর আগেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় এমন যোগাযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, তদন্ত চলমান থাকায় আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ঢাকার অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া, নিম্নপদস্থ বিমানসেনাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানঘাঁটিগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতি যাচাই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে থাকা কয়েকজন সদস্য কক্সবাজার ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও যশোরে অবস্থিত দুটি স্কোয়াড্রনেও সংশ্লিষ্ট সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যশোরভিত্তিক একটি স্কোয়াড্রনের সদস্যরা রাডার ও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঢাকার কুর্মিটোলা ঘাঁটিতে কর্মরত দুইজন এবং চট্টগ্রামের জহুরুল হক ঘাঁটির এয়ারম্যান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে কর্মরত একজন সদস্য পলাতক রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান তিনটি ঘাঁটি ঢাকার কুর্মিটোলা ও তেজগাঁও এবং চট্টগ্রামের জহুরুল হক ঘাঁটিতে অবস্থিত। এসব ঘাঁটিতেই মূলত যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকে। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au