মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন
সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের পর নতুন করে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ওই ফুটেজে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত এক আসামিকে নিহত কর্মকর্তার লুট হওয়া ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আসামি ইমরান হোসেন হৃদয় হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানায়, এই ব্যাগটি নিহত বুলেট বৈরাগীর বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এটি হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বুলেট বৈরাগীকে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র যাত্রীবেশে ফাঁদে ফেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে চলন্ত অবস্থায় তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের টার্গেট করে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। ঘটনার দিন অটোরিকশার চালকসহ ভেতরে থাকা সবাই এই চক্রের সদস্য ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকার একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
র্যাব আরও জানায়, বুলেট বৈরাগীকে অটোরিকশায় তোলার পর চক্রটি তার কাছ থেকে ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় আঘাত লেগে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাপাতি, হাতুড়ি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত চলছে এবং র্যাব বলছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au