সিনেটরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ক্ষমা চাইলেন ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসন
মেলবোর্ন, ৬ মে- অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক কবিতণ্ডার ঘটনায় লিবারেল দলের সিনেটর জেমস প্যাটারসনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসন। অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ৬ মে- অস্ট্রেলিয়ার একটি স্কুলে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষক কিম রামচেন হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রধান শিক্ষক অ্যারন সাইকসের ওপর দুই দফায় ছুরি দিয়ে হামলা চালান। ঘটনার আগে তিনি আচমকা নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং খুব রেগে যান।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর কিসবোরো সেকেন্ডারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ৩৭ বছর বয়সী রামচেনকে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয়।ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে আটক করার পর পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি আঘাত করা, অস্ত্র দিয়ে হামলা ও বেআইনি আক্রমণের অভিযোগ স্বীকার করেন।
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেদিন বিকেল ৩টার দিকে ক্লাস শেষ করে রামচেন অফিসের একটি রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নেন। এরপর কোনো কথা না বলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে তার দিকে ছুরি ধরেন। প্রধান শিক্ষক কিছু বুঝতে চেয়ে কথা বললে রামচেন হঠাৎই তাকে আঘাত করেন।
চিৎকার শুনে অন্য শিক্ষকরা এসে দেখেন, রামচেন ছুরি হাতে আক্রমণ করছেন। তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে আবার তিনি বড় একটি ছুরি নিয়ে ফিরে এসে দ্বিতীয়বার হামলা চালান। তখন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা মিলে তাকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত আটকে রাখেন।
এ হামলায় প্রধান শিক্ষকের গলায় জখম হয়। মুখ ও হাতেও আঘাত লাগে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত ও কালশিটে দাগ পড়ে।
পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রামচেন বলেন, কেন এমন করেছেন তা তিনি ঠিকভাবে বলতে পারেন না। হঠাৎ করে তিনি খুব রেগে যান এবং নিজেকে সামলাতে পারেননি।
আদালতে বলা হয়, এই ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক এখনো কাজে ফিরতে পারেননি এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, রামচেনের জীবনে অনেক সমস্যা ছিল। ছোটবেলা থেকে নানা কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। তবে এর আগে তিনি কখনো সহিংস আচরণ করেননি।
পরে জানা যায়, তার অটিজম ও বারবার হওয়া বিষণ্নতার সমস্যা আছে। তিনি মেধাবী ছিলেন এবং পিএইচডি শেষ করে শিক্ষকতা শুরু করেন বলে জানান তার কয়েকজন সহকর্মী। প্রায় দেড় বছর কাজ করার পর তাকে জানানো হয়, তার চাকরির চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না। এরপর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মাদক নেওয়ার পরিমাণও বাড়ে এবং নিজেকে একা মনে করতে থাকেন।
একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, রামচেন মনে করতে শুরু করেন তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং তিনি প্রধান শিক্ষককে দায়ী ভাবতে থাকেন। এতে তার চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতা কমে যায়।
আসামিপক্ষ বলেছে, তিনি ইতোমধ্যে ১৫৫ দিন জেলে ছিলেন, এটুকুই যথেষ্ট। তাকে সমাজের মধ্যে রেখে চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া উচিত। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, তার আরও কিছুদিন কারাভোগ করা দরকার, তারপর দীর্ঘ সময় নজরদারিতে রাখা যেতে পারে।
বিচারক আগামী সোমবার বিকেলে এই মামলার রায় দেবেন।
সূত্রঃ news.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au