‘আপনি তিন লাখ টাকা দেন’: চোরাই পণ্য জব্দের পর এসআই
মেলবোর্ন, ৭ মে- নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ এবং দুই যুবক আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ…
মেলবোর্ন, ৭ মে- ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মেনে নিলে চলমান যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান প্রস্তাবে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও ভয়াবহ ও তীব্র বোমা হামলা চালানো হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনায় আগে থেকে নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে “এপিক ফিউরি” সামরিক অভিযান শেষ করা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, “ইরান যদি সম্মত না হয়, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে। আর সেই হামলার মাত্রা ও তীব্রতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযানের নাম দিয়েছিলেন “প্রজেক্ট ফ্রিডম”।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি সরাসরি আগ্রাসন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এখনই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, উত্তেজনা কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে চীন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
ওয়াং ই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধকে চীন বৈধ মনে করে না। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
চীনের অবস্থানের প্রশংসা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিংকে তেহরানের “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান শুধু এমন একটি চুক্তি মেনে নেবে, যা ন্যায়সংগত, পূর্ণাঙ্গ এবং দেশটির স্বার্থ রক্ষা করে।
আরাগচি বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের বৈধ অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাব। তবে ইরানের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সমাধান গ্রহণ করা হবে না।”
যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল আরাগচির প্রথম চীন সফর। বৈঠকে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক সেবা, কারিগরি সহায়তা ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়।
এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। এর আগে ইরান অভিযোগ করেছিল, আমিরাত তাদের শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
জিসিসির মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইওয়ি বলেন, ইরানের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক। তিনি দাবি করেন, ইরান শুধু আমিরাতের বিরুদ্ধে হামলাই চালায়নি, বরং আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
জিসিসি জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রয়েছে এবং দেশটির সব পদক্ষেপকে সমর্থন করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au