সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২১ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ থেকে ২১ হাজার ৯৫১…
মেলবোর্ন,১০ মে- গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া নিয়ে সন্দেহ এবং দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। হত্যার পর অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা স্বজনদের ফোন করে নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন ফোরকান মোল্লার স্ত্রী শারমিন খানম, তিন মেয়ে মীম খানম, উম্মে হাবিবা ও ছোট্ট ফারিয়া, এবং শ্যালক রসুল মোল্লা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত ফোরকান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, তিন শিশুর মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে আছে। শ্যালক রসুলের মরদেহ ছিল বিছানায়। আর স্ত্রী শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, ভারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ফোরকান সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে করার ইচ্ছার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া ও মনোমালিন্য চলছিল। কয়েক মাস আগে শারমিনকে মারধরের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে গেলেও ফোরকান আবার তাকে ফিরিয়ে আনেন।
শারমিনের ফুফু ইভা আক্তার জানান, শনিবার ভোরে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে বলেন, “সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর তোরা পাবি না।” এরপর স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহগুলো দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।

ফোরকান মোল্লার বড় মেয়ে মীম খানম ।ছবি : সংগৃহীত
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুক্রবার রাতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শ্যালক রসুলকে বাসায় ডেকে আনেন ফোরকান। পরে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তাকেও হত্যা করা হয়।

ফোরকান মোল্লার মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা ।ছবি : সংগৃহীত
ঘটনাস্থল থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা একটি স্বাক্ষরবিহীন অভিযোগপত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ফোরকান দাবি করেন, স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং তাকে নির্যাতন করেছেন। তবে নিহতদের স্বজনরা এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি, মদের বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করেছে।
তিনি জানান, অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। তাকে আটক করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au