সব মামলায় আইভীর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
মেলবোর্ন,১০ মে- হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার কারামুক্তিতে এখন…
মেলবোর্ন,১০ মে- সিরিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পর আইএস-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তিন অস্ট্রেলীয় নারীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগদান, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থান এবং এক ইয়াজিদি নারীকে দাস হিসেবে ব্যবহার করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার নিউ সাউথ ওয়েলস বেল কোর্টে জামিন আবেদন করেন ৩২ বছর বয়সী জানাই সাফার। তার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধাঞ্চল সিরিয়ায় প্রবেশ ও অবস্থান এবং আইএসের সদস্য হওয়ার অভিযোগ এনেছে অস্ট্রেলিয়ার যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স।
জানাই সাফারের আইনজীবী মাইকেল এইন্সওয়ার্থ আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেল দীর্ঘদিন সিরিয়ার ভয়াবহ শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, সাফারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুরোনো এবং ২০১৭ সালের পর তার কোনো জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ব্রায়ান ম্যাসোন আদালতে বলেন, সাফার পরিকল্পিতভাবে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আগামী ১৫ জুলাই ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।
অন্যদিকে, মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হয় ৫৪ বছর বয়সী কাউসার আহমাদ এবং তার মেয়ে ৩১ বছর বয়সী জেইনাব আহমাদকে। বৃহস্পতিবার সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পর মেলবোর্ন বিমানবন্দর থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ছবি : সংগৃহীত
কাউসার আহমাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দাসপ্রথা, দাস রাখার অভিযোগ, দাস ব্যবহার এবং দাস ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর জেইনাব আহমাদের বিরুদ্ধে দাসপ্রথা ও দাস ব্যবহারসংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৪ সালে তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন এবং ২০১৯ সাল থেকে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আল রোজ শরণার্থী শিবিরে আটক ছিলেন।
পুলিশের অভিযোগ, সিরিয়ার দেইর আজ-জোর অঞ্চলে তারা এক ইয়াজিদি নারীকে ১০ হাজার মার্কিন ডলারে কিনে এনে দাস হিসেবে ব্যবহার করতেন। ওই নারীকে গৃহকর্মে বাধ্য করা হতো এবং তার ওপর দাসসুলভ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
আদালতে জানানো হয়, কাউসার আহমাদ আইএস-সমর্থিত বক্তব্যও দিয়েছেন, যা তার জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আইনি জটিলতা তৈরি করেছে। সোমবার তাদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, মেলবোর্ন বিমানবন্দরে ওই নারীদের ফেরত আনার সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সমর্থক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, সিরিয়া থেকে ফেরা নাগরিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au