সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…
মেলবোর্ন, ১৫ মে- চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দেশটি ছাড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এই বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান, বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান “বহু জটিল ও ভিন্নধর্মী সমস্যা” নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে তাইওয়ান, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, সামরিক প্রভাব বিস্তার এবং বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
দুই নেতার আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তাইওয়ান ইস্যু। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানই “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়”। তিনি বলেন, এই ইস্যু ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে ভবিষ্যতে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
চীনের দৃষ্টিতে তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতায় সমর্থন দিয়ে আসছে। এ কারণে বিষয়টি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সবচেয়ে বড় কৌশলগত উত্তেজনার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
সি চিন পিংয়ের সতর্কবার্তার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ওয়াশিংটন আগের নীতিতেই অটল রয়েছে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং ইরান পরিস্থিতিও বড় গুরুত্ব পায়। ট্রাম্প বলেন, তিনি এবং সি চিন পিং ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে, তেহরানের হাতে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা চীনের জন্য যতটা প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ততটা নয়। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি “কখনোই হওয়া উচিত ছিল না”। বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও জানানো হয়।
বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা ও কূটনৈতিক আয়োজনও ছিল ব্যাপক। ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নানা আয়োজন করা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তারা একাধিক বৈঠকে অংশ নেন এবং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও বৈঠকে বড় কোনো চুক্তি হয়নি, তবুও বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপ অব্যাহত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে তাইওয়ান ও ইরানকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ উত্তেজনা কীভাবে গড়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্রঃসিএনএন ও রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au