নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫মে- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে ভয়াবহ স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিহতদের শরীরের নিচের অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়।
স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তসংলগ্ন একটি ফলের বাগানে কাজ করতে যান কয়েকজন বাগানচাষি। এ সময় হঠাৎ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে দৌড়ে গেলে পরপর আরও দুটি মাইন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ। বিস্ফোরণের পর আশপাশের শ্রমিক ও গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানান, সীমান্ত এলাকায় ফলের বাগানে কাজ করার সময় এই মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থলমাইনে পা পড়ার কারণেই বিস্ফোরণ হয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা বলেন, সীমান্তসংলগ্ন শূন্যরেখার আশপাশের মানুষ জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে ফলের বাগান ও কৃষিকাজ করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি জানান, গত বছরও বাগানে কাজ করতে গিয়ে দুই ব্যক্তি নিখোঁজ হন। এছাড়া এক নারী মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দাবি করেছেন, বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল শূন্যরেখার ভেতরে হলেও এটি বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা এলাকা। সেখানে কীভাবে শক্তিশালী স্থলমাইন স্থাপন করা হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে কারা এসব মাইন পুঁতেছে বা কীভাবে সেখানে বিস্ফোরক এল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।