ইরানি হামলায় সব ফ্লাইট বাতিল করল ইজিপ্টএয়ার
মেলবোর্ন, ৪ জুন- কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে মিসরের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা…
মেলবোর্ন, ৩ জুন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ভবিষ্যতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক আগের তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত ‘পড ফোর্স ওয়ান’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি এবং দেশটির অনেক মানুষ তাকে সম্মান করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আসলে আমি সবার সঙ্গেই দেখা করতে চাই। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে কোনো একসময় আমাদের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় তিনি আহত হন। একই হামলায় তার বাবা এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে মোজতবা খামেনির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসায় এবং সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী ও বার্তাবাহকদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে, যা প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন এখন মোজতবা খামেনিই দিয়ে থাকেন। তার ভাষায়, “আগে তার বাবা সিদ্ধান্ত নিতেন, এখন তিনি নিচ্ছেন। এটিকে এক ধরনের উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া বলা যেতে পারে।”
তবে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান তার আগের মন্তব্যের সঙ্গে বেশ ভিন্ন। অতীতে তিনি মোজতবাকে দুর্বল নেতা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে উপযুক্ত মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জনের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা মূল্যায়নগুলোরও আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য বৈঠক বাস্তবায়িত হলে তা অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au