আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে দায়ী করে যা ব্যবস্থা নিল সরকার
মেলবোর্ন, ৪ জুন- রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ঘটনার তদন্তে চিকিৎসক, নার্স ও…
মেলবোর্ন, ৪ জুন- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তারা পদত্যাগ করেছেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পদত্যাগ করা চার কমিশনার হলেন মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফউদ্দিন।
সূত্র জানিয়েছে, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজই নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চেয়ারম্যান পদে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি নতুন কমিশনার হিসেবে একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ, একজন আইনজীবী এবং পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
পদত্যাগের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় খন্দকার রাশেদ মাকসুদ তার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, প্রায় ২১ মাস আগে দেশের পুঁজিবাজারের একটি অস্থির সময়ে তিনি কমিশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাজারের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তিনি জানান, তার নেতৃত্বে বিএসইসি এই সময়ের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিরীক্ষা এবং করপোরেট পুনর্গঠনসংক্রান্ত তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ তার বক্তব্যে বলেন, পুঁজিবাজারে সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিশন বিভিন্ন বিধি-বিধান বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বাজারে অনিয়ম কমানো, আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং অংশীজনদের জন্য একটি স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বাজার পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের সুযোগ কমিয়ে আনা হয়েছে, যাতে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো নিজ নিজ বিধি ও নিয়মের আওতায় স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ দেশের শেয়ারবাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে পুঁজিবাজারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার কার্যক্রমেও নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। বর্তমানে বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি এখন নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের দিকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au