হামলা স্থগিতের ঘোষণা ইরান-ইসরায়েলের
মেলবোর্ন, ৯ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকদিনের তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েল। উভয় দেশের এই ঘোষণাকে অঞ্চলজুড়ে…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও ওয়ানডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। আজ থেকে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের সিরিজকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। শুধু দীর্ঘ বিরতির কারণেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যও সিরিজটিকে বিশেষ গুরুত্ব এনে দিয়েছে।
২০১১ সালের পর এই প্রথম ওয়ানডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে দুই দলের দেখা হয়েছে তিনবার। সেখানে দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আর একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে খুব একটা কথা বলে না। ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত দুই দলের ২২ দেখায় বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০৫ সালের কার্ডিফে। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন তুলেছিল বাংলাদেশ। দুই দশক পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছে টাইগাররা।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময় স্পিননির্ভর দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন পেস আক্রমণেও সমান শক্তিশালী। বিশেষ করে ঘরের মাঠে সর্বশেষ চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে দলটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দলের।
বাংলাদেশের পেস বিভাগের অন্যতম বড় ভরসা এখন নাহিদ রানা। চলতি বছরে মাত্র দুটি সিরিজে ১৬ উইকেট নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। চলতি বছরে বাংলাদেশের ছয় ওয়ানডেতে পেসাররা নিয়েছেন ৬৯ উইকেট, যেখানে স্পিনারদের সংগ্রহ মাত্র ২৬ উইকেট। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে দলের বোলিং আক্রমণে কতটা পরিবর্তন এসেছে।
সিরিজের আগে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, দল ভালো ক্রিকেট উইকেটে খেলতে আগ্রহী। তার মতে, সামনে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের মতো বড় আসর থাকায় উন্নত মানের উইকেটে খেলে নিজেদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আসেনি। দলের তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার এই সফরে নেই। সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। পারিবারিক কারণে দলে নেই ট্রাভিস হেডও। ফলে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে থাকছেন জশ ইংলিস।
তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ অস্ট্রেলিয়া। জশ ইংলিস বলেছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলা সব সময়ই কঠিন। যদিও দলের অনেক ক্রিকেটারের বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নেই, তবুও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগেও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা নিয়ে এখনো পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই টিম ম্যানেজমেন্ট। সে কারণেই চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তার।
প্রিমিয়ার লিগে সাত ইনিংসে ৩৩৬ রান ও ১২ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মোসাদ্দেক। একইভাবে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এসব পারফরম্যান্স অধিনায়ক মিরাজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখছে দলটি। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ শুধু আরেকটি দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের পরীক্ষাও।
আজ মাঠে নামার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সেই পরীক্ষা। ১৫ বছরের অপেক্ষা শেষে এবার প্রশ্ন একটাই—দুই দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে কি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে বাংলাদেশ?
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au