শ্রুতি পালের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ফেনীতে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী শ্রুতি পালের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের একটি গীতাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ভারতের কথিত ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক বাংলাদেশে লোক পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। বাংলাদেশ এই ইস্যুকে বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে তুলতে চাইলেও ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সোমবার চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নিতে ১৪ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধিদল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছায়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, অবৈধ পুশ ইন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও বিএসএফের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসবের মধ্যে শুধুমাত্র সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তসীমান্ত অপরাধ, অনুপ্রবেশ, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া লঙ্ঘন এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। পুশ ইন প্রসঙ্গ সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের জাতীয়তা যাচাই কিংবা প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আসাম, দিল্লি, গুজরাট, রাজস্থান, ওডিশা, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র থেকে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঢাকার দাবি, কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যাবাসনের আগে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, একতরফাভাবে কাউকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পুশ ইন ইস্যু বিজিবির পক্ষ থেকে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বিষয়টি নিয়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। দীর্ঘ এই সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সীমান্ত হত্যা এবং নাগরিক প্রত্যাবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুশ ইন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য থাকলেও দিল্লির এই বৈঠক সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আলোচিত ইস্যুগুলোর মধ্যে পুশ ইন প্রশ্নে কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au