জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ যুদ্ধের নির্মম পরিণতি ভোগ করছে। প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি এর প্রভাব এখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলো এই পরিস্থিতির কারণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় অঞ্চলটিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠবে।
গুতেরেস বলেন, সংঘাতের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমান্তে আটকে নেই। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, চলমান উত্তেজনার কারণে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংঘাত নিরসনে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।