নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- নোয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) ভোরে একদল দুর্বৃত্ত এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তাঁর জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে ৯ জুলাই জন্মস্থান মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে তিন দিনব্যাপী জানাজার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ৪ জুলাই শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর ৭ জুলাই ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে আরেকটি বিশেষ স্মরণ ও জানাজার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন সম্পন্ন হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির দাফন প্রথমে চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এখন নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে নিজের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরান দাবি করে। তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে দেশটির ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তাঁকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রায় চার দশক ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খোমেনি যেখানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, সেখানে খামেনি ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও আধা-সামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী করে তোলেন। তাঁর আমলে দেশটির আঞ্চলিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিয়েছেন। ফলে তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে।
খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কারণে এই আনুষ্ঠানিকতা ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au