নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন: পাকিস্তানে ছুটি কাটাতে গিয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাসকারী একটি অস্ট্রেলীয় পরিবার। ডাকাতদের লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে গিয়ে ভুলবশত পরিবারের ভাড়া করা গাড়িতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে ৯ বছর বয়সী হানিয়া আহমেদ নিহত হয়েছে এবং তার বাবা ও ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল শহরে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে অস্ত্রধারী ডাকাতদের কবলে পড়ে আহমেদ পরিবার। ডাকাতরা পরিবারের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান গয়না ছিনিয়ে নেয়।
পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বাবা আদিল আহমেদ। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ ভুলবশত তাদের ভাড়া করা গাড়িটিকেই ডাকাতদের পালানোর গাড়ি বলে মনে করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়।
পুলিশের গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা ৯ বছর বয়সী হানিয়া আহমেদ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবা আদিল আহমেদ এবং ভাই আফান আহমেদও গুলিবিদ্ধ হন। তাদের পরবর্তীতে রাওয়ালপিন্ডির বেনজির ভুট্টো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর আদিল আহমেদ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও আফান এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মা সিদরা খান অক্ষত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেদিন রাতে পরিবারটি সিদরা খানের বাবার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে তার চাচা আলী এজাজের বাড়িতে যাচ্ছিল। রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে বাড়ির সামনে গাড়ি থামানোর পর মোটরসাইকেলে আসা দুই ডাকাত তাদের ঘিরে ফেলে। এক ডাকাত অস্ত্রের মুখে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৭,৫০০ ডলার মূল্যের গয়না ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
পুলিশ জানায়, ডাকাতদের তৎপরতা দেখতে পেয়ে এক পুলিশ সদস্য গুলি চালান। ডাকাতরাও পাল্টা গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। একই সময় আদিল আহমেদ পরিবারকে নিয়ে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের গাড়িকেই ডাকাতদের বাহন ভেবে ধাওয়া করে এবং গুলি চালায়।
চাকওয়ালের জেলা পুলিশ কর্মকর্তা কাশিফ জুলফিকার ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পাকিস্তানি কমিউনিটির নেতারাও ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানি অ্যাসোসিয়েশন ডব্লিউএর সাধারণ সম্পাদক আসিম চৌধুরী বলেন, “এই সংবাদ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, বিশেষ করে নয় বছরের একটি শিশুর মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT) জানিয়েছে, নিহত ও আহত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের পরিবারের জন্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, “এই কঠিন সময়ে আমরা পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au