অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক: লক্ষ্য পূরণ না হলেও “হার কমছে” বলছেন টনি বার্ক

  • 2:15 pm - June 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭০ বার
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী টনি বার্ক দাবি করেছেন অভিবাসন হার ৪৫ শতাংশ কমেছে। ছবি: এন্ড্রু পারসন

মেলবোর্ন, ১৪ জুন: অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী টনি বার্ক দাবি করেছেন যে অভিবাসনের হার “ক্রমাগত কমছে”, যদিও ২০২২ সাল থেকে টানা কোনো বছরই সরকার নির্ধারিত অভিবাসন লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি আলবেনিজ সরকার।

স্কাই নিউজের সানডে এজেন্ডা অনুষ্ঠানে টনি বার্ক বলেন, বাজেট নথি অনুযায়ী অভিবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এটি ধারাবাহিকভাবে আরও কমছে।

“আমরা ইতোমধ্যেই অভিবাসনের সংখ্যা তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে এনেছি, এবং বাজেট নথি অনুযায়ী এটি আরও কমছে,” তিনি বলেন।

তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন চিত্র। সরকার ২০২২ সাল থেকে একটিও বছর তাদের নির্ধারিত অভিবাসন লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। সরকার দীর্ঘদিন ধরে বছরে প্রায় ২২৫,০০০ অভিবাসীর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা অর্জিত হয়নি।

সর্বশেষ বাজেট পূর্বাভাসে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ সালে অভিবাসনের সংখ্যা প্রায় ৩১০,০০০-এ দাঁড়াবে, যা আগের অনুমান ২৯৫,০০০-এর চেয়েও বেশি। পাশাপাশি ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট নেট বিদেশি অভিবাসন প্রায় ১২ লাখ মানুষের সমান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মানুষের সমপরিমাণ অভিবাসন হ্রাস প্রয়োজন হবে।

টনি বার্ক বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আগমন, প্রস্থান এবং স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করে দেখা প্রয়োজন।

“আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে কে আসছে, কে যাচ্ছে এবং কে থেকে যাচ্ছে,” তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, আবাসন সরবরাহ ও অভিবাসন নীতির মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি।

“আমরা এমন পরিস্থিতিতে থাকতে পারি না যেখানে আমরা আবাসন সরবরাহ এবং অভিবাসন সংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য আনতে ব্যর্থ হই,” তিনি যোগ করেন।

সরকার বর্তমানে “৭০:৩০” নীতি অনুসরণ করছে, যেখানে প্রতি ১০০ অভিবাসীর মধ্যে ৭০ জন দক্ষ কর্মী এবং ৩০ জন পারিবারিক অভিবাসীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভিসা ও ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নীতিতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী লিবারেল পার্টির এমপি ফিল থম্পসন সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার তাদের অভিবাসন লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।

তিনি বলেন, অভিবাসন নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্তে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত।

“আমি চাই না কোনো ISIS সমর্থক অস্ট্রেলিয়ায় আসুক, এবং সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টেম্পোরারি এক্সক্লুশন অর্ডার আরও বেশি ব্যবহার করা উচিত,” তিনি বলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি যথাযথ নয় এবং নির্মাণ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উপেক্ষিত হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ অস্ট্রেলীয় অভিবাসন সংখ্যা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্কাই নিউজ পালস / YouGov জরিপ অনুযায়ী, ৩৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ওয়ান নেশন পার্টি সবচেয়ে কার্যকর, যেখানে লেবার ও কোয়ালিশন উভয় দলই ১৮ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছে। জরিপে ২১ শতাংশ মানুষ অনির্ধারিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা “বড় ধরনের অভিবাসন হ্রাস” চান, ১৮ শতাংশ “সামান্য হ্রাস” চান। অন্যদিকে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ অভিবাসন বৃদ্ধি চান।

এই শাখার আরও খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…

সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…

মসজিদে বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য খতিবের, নিরব প্রশাসন

ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার টানপাড়ার জামতলা জামে মসজিদে জুমার বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রসাদ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে মসজিদটির অস্থায়ী খতিব…

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au