ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ প্রবেশের সময় ৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৬
মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের সময় আট বাংলাদেশিসহ ১৬ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির নৌবাহিনী। সোমবার রিয়াউ প্রদেশের দুমাই শহরের উপকূলীয় এলাকায় অভিযান…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে নিজ ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের পরিবারের এক শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশু পিয়াস বড়ুয়া (৫) নিহত এনির ছেলে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এনি বড়ুয়া ও তার ছেলেকে দেখতে পান। ঘরের ভেতরে পড়ে ছিলেন কিশোরী প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের ভেতর ও বাইরে রক্ত ছড়িয়ে ছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া বাড়িতে ছিলেন না। তিনি শহরে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন। রাতেই বড় ভাইয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
সুজন বড়ুয়ার দাবি, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তার ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরে কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খুঁজতে এসে এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী সম্ভাব্য হামলাকারীর নাম উল্লেখ করেছিলেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করছিল এবং এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au