নেত্রকোনায় ধর্ষণের মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ শুক্রবার…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। প্রত্যাবাসনের আগে তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করছে দেশটির সরকার।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যাবাসনের পুরো বিষয়টি যৌথভাবে পর্যালোচনা করছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে সব ধরনের মানদণ্ড ও শর্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যদি উপযুক্ত মনে হয়, কেবল তখনই তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও জীবন ঝুঁকিতে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করছে।”
এর আগে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় চাপের মুখে রোহিঙ্গারা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গারা অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।
এর অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের পরিচালিত কয়েকটি কমিউনিটি স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়ো হলে তাদের আটক করে কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দিন পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অভিযোগ, দেশটির উত্তরাঞ্চলের পেনাং অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছেন। পরে সহায়তার জন্য তারা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ে যান।
প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাতিলের দাবি
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক ব্রায়োনি লাউ এক বিবৃতিতে বলেন, “মিয়ানমার জান্তার নির্মমতার শিকার রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ফেরত না পাঠিয়ে, এই সংকট মোকাবেলায় মালয়েশিয়া সরকারের উচিত আঞ্চলিক নেতৃত্ব দেওয়া।”
মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও সহিংসতার কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
মালয়েশিয়া জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয়। দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য আলাদা কোনো আইনি মর্যাদা নেই। ফলে মালয়েশিয়া তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।
সূত্র:রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au