নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নয়: মালয়েশিয়া
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। প্রত্যাবাসনের আগে তাদের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতি সীমিত করতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে তার আগের নির্বাহী আদেশ সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এর একটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব প্রযোজ্য হবে না, সেই পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অন্য আদেশে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলতে এমন ঘটনাকে বোঝায়, যেখানে গর্ভবতী নারীরা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, যাতে জন্মের মাধ্যমে তাদের সন্তান মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, “এটি বহু বছর আগেই হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমরা এখন এটি করছি।”
কী আছে নতুন নির্বাহী আদেশে
ট্রাম্পের প্রথম আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন দুই বাবা-মায়ের সন্তান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না, যদি বাবা-মায়ের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, কোনো বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা বা কর্মচারী হন কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন।

প্রতীকী ছবি
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের নিয়ম আলাদাভাবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যেখানে ফেডারেল আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না।তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর প্রথম বাক্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা নাগরিকত্ব পাওয়া সব ব্যক্তিই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
প্রায় দেড়শ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি কার্যকর রয়েছে। কূটনীতিক ও বিদেশি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের ক্ষেত্রে অবশ্য এর ব্যতিক্রম রয়েছে।
বার্থ ট্যুরিজম নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ
ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই বার্থ ট্যুরিজমের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের দাবি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে সন্তান জন্ম দেন এবং সেই সন্তানের নাগরিকত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ তৈরি করেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে।
তবে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, প্রতি বছর বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাধারী মায়েরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯ হাজার ৬০০টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর পলিসি স্টিফেন মিলার বলেন, অনেক মানুষ পর্যটক বা দর্শনার্থীর পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সন্তান জন্ম দেওয়া।মিলারের দাবি, এরপর ওই সন্তান মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, ভোটাধিকার এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য অধিকার পেয়ে যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,কিন্তু তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো একটি সন্তান জন্ম দেওয়া।ছবি: সংগৃহীত
তিনি আরও বলেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের একটি ধারায় প্রেসিডেন্টকে দেশে কারা প্রবেশ করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই বার্থ ট্যুরিজম বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টে আগের উদ্যোগ আটকে যায়
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করেন। এ জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ হয় এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যায়। জুন মাসে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নীতিকে বহাল রাখার পথ আটকে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান আইন কার্যকর থাকে।সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার “খুবই অন্যায্য” বলে মন্তব্য করেন।
ওভাল অফিস থেকে নির্বাহী আদেশগুলোর ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, উচ্চ আদালত “খারাপ সিদ্ধান্ত, খুবই অন্যায্য সিদ্ধান্ত” দিয়েছে।ফাইল ছবি
তিনি বলেন, “এর কারণে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং আমরা ভিন্ন উপায়ে এর অবসান ঘটাচ্ছি।”
আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে নতুন আদেশ
ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন বিবিসিকে বলেন, আদেশের কিছু অংশ হয়তো টিকে যেতে পারে। তবে এর অন্য কিছু অংশ “গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন” তৈরি করে।চিনের মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের প্রবেশ সীমিত করার কিছু ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকতে পারে। কিন্তু কোনো শিশু একবার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে তাকে নাগরিক নয় বলে ঘোষণা করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, “একবার যখন কোনো শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়, তখন সেই শিশুটি নাগরিক নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে বলে আমি মনে করি না।”চিন আরও বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিষয়টি অনেকটাই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
বার্থ ট্যুরিজমের পরিমাণও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মোট জন্মের তুলনায় খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি “সমুদ্রের এক ফোঁটা”র মতো একটি ঘটনা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au