নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব আল হাসান
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার তাঁর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দুই বছরের…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট- নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট: ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক উত্তেজনার পর নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানিয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বা সেখানে ব্যক্ত হওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।
তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া কোনো বক্তব্যের সঙ্গেই ভারত সরকার নিজেকে সম্পৃক্ত মনে করে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সম্পর্কে সেখানে যে মন্তব্য করা হয়েছে, সেগুলোও ভারত সরকার সমর্থন করে না।
শেখ হাসিনা সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচার নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তাঁর ওই বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও স্পষ্ট করেছে, অনুষ্ঠানটি সরকারি নয়, বরং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সেখানে প্রকাশিত মতামতের দায় ভারত সরকার বহন করে না।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেগুলো জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যায়ে টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তাঁর ভাষ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন সহযোগিতামূলক খাত স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জ্বালানি ও অন্যান্য সহযোগিতামূলক খাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বার্তাই দিয়েছে নয়াদিল্লি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au