নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নয়: মালয়েশিয়া
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। প্রত্যাবাসনের আগে তাদের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষকসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। হামলার পর ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলে হামলা চালানোর আগে ওই শিক্ষার্থী নিজের দাদা–দাদিকেও গুলি করে হত্যা করে।
২০২২ সালের পর এটি থাইল্যান্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ত্রাইরং ফোফান জানান, ১৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারী স্কুলে অন্তত ২৬টি গুলি ছোড়ে। তার কাছে আরও ৩৪টি গুলি পাওয়া গেছে। হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি তার দাদার বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুলির শব্দ শুনে আতঙ্ক
হামলার সময় স্কুলে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, শুরুতে তিনি গুলির শব্দ বুঝতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো বাইরে আতশবাজি ফুটছে অথবা কেউ কোনো বস্তুর ওপর আঘাত করছে।তিনি বলেন, “শুরুতে আমি বুঝতে পারিনি যে এটি বন্দুকের গুলি। একের পর এক গুলির শব্দ হচ্ছিল। এরপর কিছুক্ষণ শান্ত ছিল। তারপর আবার গুলির শব্দ শুরু হয়।”
জরুরি সেবাকর্মীদের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছে। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। একটি ছবিতে একজনকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে একজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসাকর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন।
আহতদের চিকিৎসা
৪৭ বছর বয়সী জরুরি সেবাকর্মী কিয়াতিকুন ভেরাপংপ্রাদিত বলেন, তাঁদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময়ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
তিনি জানান, পিঠ, বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তারা চিকিৎসা দিয়েছেন। স্কুলের ওপরের তলায় একজন পুরুষ শিক্ষককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য একটি কক্ষে বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ এক নারী শিক্ষককেও পাওয়া যায়।কিয়াতিকুন বলেন, “আমরা দ্রুত ওপরে উঠে দেখি, হামলাকারী নিজের মাথার ডান পাশে গুলি করেছে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আমরা সেখানে পৌঁছে তার নাড়ি পরীক্ষা করি, তখনো স্পন্দন ছিল। তাই আমরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করি।”
পরে হামলাকারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে।
হামলাকারী স্কুলটিরই শিক্ষার্থী
থাইল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী প্রসার্ট জান্তারারুয়াংথং জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই রয়েছেন। পুলিশ হামলাকারীকে ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী ও ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন।ঘটনার পর স্কুল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলার কারণ এবং কীভাবে ওই কিশোর আগ্নেয়াস্ত্রটি সংগ্রহ করেছিল, তা তদন্ত করছে পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রীর শোক
ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা। যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য আমি শোকাহত। আমাদের দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে, এ জন্যও আমি দুঃখিত।”
থাইল্যান্ডে এর আগেও স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলের হাত ইয়াই জেলায় একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত ও একজন শিক্ষার্থী আহত হন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au