ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুন- ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তার ওপর পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার চাপ ক্রমশ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
সরকার ও লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী এখন “বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থান” মূল্যায়ন করছেন। তার মতে, গত সপ্তাহে অ্যান্ডি বার্নহামের উপনির্বাচনে জয় লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের পথ আরও সুগম করেছে।
এই ঘটনার পর লেবার পার্টির একাধিক সিনিয়র নেতা প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি নেতৃত্ব ছাড়ার একটি সময়সূচি ঘোষণা করেন, যাতে অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য সম্ভাব্য পথ তৈরি হয়। দলটির ভেতরে এ নিয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে কিয়ার স্টারমার খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিবাসন ও জ্বালানি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন এবং নর্থ সি অঞ্চলে তেল উত্তোলন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনে দুই নেতার শেষ দেখা হয়েছিল, এরপর তাদের মধ্যে আর কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।
অ্যান্ডি বার্নহামের উপনির্বাচনের জয় লেবার পার্টির নেতৃত্ব সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি দলীয় নেতৃত্বে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। দলের কিছু এমপি মনে করছেন, তিনি ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দৌড়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবার সময় নিচ্ছেন এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তা দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই হবে।
পিটার কাইল স্বীকার করেন, লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ ও শক্তি সক্রিয় রয়েছে, তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হলে তা সরকারের স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ২০২০ সালে কিয়ার স্টারমার দলীয় নেতৃত্বে আসার সময় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ছয় সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এবারও একই ধরনের প্রতিযোগিতা হলে দলের ভেতরে বিভাজন আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক উপনির্বাচনে লেবার পার্টির ফলাফল নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। এর পর থেকেই দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। পরিবহনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক সিনিয়র নেতা প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। অনেক এমপি প্রকাশ্যে বলছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে দল নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে।
অন্যদিকে কিছু নেতা সতর্ক করেছেন যে আকস্মিক নেতৃত্ব পরিবর্তন বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন।
এদিকে দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নাম আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা হলে সেটি হতে হবে “নীতির লড়াই” এবং দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পরিষ্কার করার সুযোগ।
অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জেস ফিলিপস মন্তব্য করেছেন, দল একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন, নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন হলেও তা যেন অস্থিতিশীলতা না বাড়ায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির ভেতরে একদিকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ, অন্যদিকে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা